ব্যাংকের ট্রান্সফার-রসিদ দেখায়, টাকা একটি অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে। সরবরাহকারীর বিল শোধ হয়েছে কি না, রসিদ তা বলে না।
ঋণটির ওপর তাইওয়ানের আইন প্রযোজ্য হলে উত্তর খুঁজতে হবে দেওয়ানি আইনের অনুচ্ছেদ 309 ও 310-এ। তাইওয়ানের আদালত কোন আইন প্রয়োগ করবে, তা ঠিক হয় চুক্তির আইন-বাছাই ধারা এবং বিদেশি উপাদানযুক্ত দেওয়ানি বিষয়ে প্রযোজ্য আইন নির্ধারণের আইনের (涉外民事法律適用法) অনুচ্ছেদ 20 দিয়ে; সরবরাহকারীর ঠিকানা তাইওয়ানে বলেই তাইওয়ানের আইন ধরে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশের ব্যাংক, ঋণপত্র (L/C) বা আদালত নিয়ে প্রশ্নে বাংলাদেশের আইনজীবী লাগবে।
ট্রান্সফারের দিনই: ব্যাংক আর প্রমাণ
বদলে যাওয়া অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়ে থাকলে আগে নিজের ব্যাংককে সন্দেহজনক প্রতারণার কথা জানান। ট্রান্সফারের তারিখ, অঙ্ক ও রেফারেন্স দিয়ে জিজ্ঞেস করুন, টাকা ফেরত চাওয়া বা আটকানোর কোন ব্যবস্থা ব্যাংক নিতে পারে। ব্যাংকের রেফারেন্স ও জবাব সংরক্ষণ করুন। ব্যাংককে জানানো আর টাকা ফেরত আসা দুটো আলাদা ধাপ; প্রথমটি হলেই দ্বিতীয়টির নিশ্চয়তা নেই।
তারপর প্রমাণ। আসল চালান ও চুক্তি এক জায়গায় রাখুন, বদলানো নির্দেশের ইমেইল আলাদা। ইমেইলের মূল ফাইল রাখুন সম্পূর্ণ হেডারসহ, শুধু স্ক্রিনশট নয়। সময়ক্রমে লিখে ফেলুন: কে সরবরাহকারীর রেকর্ডে অ্যাকাউন্ট বদলাল, কে পেমেন্ট অনুমোদন করল, ট্রান্সফারের আগে কোনো পুরোনো পরিচিত নম্বরে ফোন করা হয়েছিল কি না। কার মেইল ভেঙে ঢোকা হয়েছিল, তা জানার আগে অনুমানকে তথ্যের মতো করে লিখবেন না।
অনুচ্ছেদ 309 ও 310: কার হাতে গেলে ঋণ শেষ হয়
অনুচ্ছেদ 309 বলে, ঋণের মূল শর্ত অনুযায়ী পাওনাদারকে, বা টাকা নেওয়ার অধিকারী অন্য কাউকে দেওয়া টাকা তিনি গ্রহণ করলে ঋণ শেষ হয়। অন্য কারও অ্যাকাউন্টে গেলে অনুচ্ছেদ 310 তিনটি পরিস্থিতি আলাদা করে। এক, পাওনাদার পরে মেনে নিলে, অথবা গ্রহীতা পরে পাওনাটাই পেয়ে গেলে শোধ কার্যকর। দুই, গ্রহীতা ‘কোয়াসি-পজেসর’ (準占有人) হলে এবং দেনাদার যদি না জানতেন যে গ্রহীতা প্রকৃত পাওনাদার নন, তাহলে শোধ কার্যকর; অনুচ্ছেদ 966 অনুযায়ী কোয়াসি-পজেসর তিনি, যিনি দখলের ওপর নির্ভর করে না এমন সম্পত্তি-অধিকার প্রয়োগ করছেন। তিন, বাকি ক্ষেত্রে পাওনাদার যতটুকু উপকৃত হয়েছেন, ততটুকু।
ইমেইলের নির্দেশে পাঠানো টাকা তাহলে কোন দফায় পড়ে? কোন পরিস্থিতি মেলে, বা কোনোটিই মেলে কি না, ঘটনার ওপর নির্ভর করে। প্রথম পরিস্থিতিতে অনুমোদনের কথা পাওনাদারের; প্রতারকের পাঠানো ইমেইল সেই অনুমোদন নয়। ধারা দুটি শুধু দেখে, ঋণ শেষ হলো কি না। সরবরাহকারীর নিজের মেইল ঝুঁকিতে থাকায় এক পক্ষ অন্য পক্ষের কাছে আলাদা ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে কি না, তা এই দুই ধারা ঠিক করে না, এই লেখাও করছে না।
আসল সরবরাহকারী আবার টাকা চাইলে
দ্বিতীয় দাবি মানা বা ফেরানোর আগে দেখুন: চুক্তির পেমেন্ট-ধারা কী বলে, অ্যাকাউন্ট বদলের লিখিত নিয়ম আছে কি না, আর আপনার কোম্পানি কোন তথ্যের ভিত্তিতে বদলটা মেনেছিল। দ্বিতীয়বার টাকা পাঠালে প্রথম ট্রান্সফারের টাকা ফেরত এলে কী হবে, তা লিখিত শর্তে ঠিক করে নেওয়া ভালো।
গ্রুপের এক সংস্থা মাল বেচল, অন্য সংস্থা টাকা চাইছে, এমন হলে কোন সংস্থা পাওনাদার, সেটা আলাদা প্রশ্ন; তাইওয়ানে গ্রুপের একাধিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে আমাদের লেখা এই প্রসঙ্গে কাজে লাগে। মালের ত্রুটি নিয়েও আপত্তি থাকলে ত্রুটি জানানোর প্রশ্ন আলাদা, তার সময়সীমা অন্য লেখায় আলোচিত।
পরের বার অ্যাকাউন্ট বদলের অনুরোধ এলে
তাইওয়ানের পুলিশের অপরাধ তদন্ত ব্যুরো (刑事警察局) 29 সেপ্টেম্বর 2026-এ এক সতর্কবার্তায় প্রতারকদের একটি ভিন্ন কৌশল নিয়ে লিখেছে, সংস্থার প্রধান সেজে ইমেইল। পরামর্শ ছিল প্রেরকের নাম নয়, পুরো ইমেইল ঠিকানা মেলানো; আগে থেকে জানা যোগাযোগের পথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা; ইমেইল বা চ্যাটে হঠাৎ আসা পেমেন্টের অনুরোধ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পেমেন্ট ও পর্যালোচনার নিয়মে চালিয়ে ফোনে বা সামনাসামনি আবার নিশ্চিত করা। অ্যাকাউন্ট বদলের অনুরোধে একই যুক্তি খাটানো যায়; এটা ওই সতর্কবার্তার সরাসরি বিষয় নয়, কোম্পানির নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ।
নতুন ইমেইলে দেওয়া ফোন নম্বর স্বাধীন যাচাই নয়। আগের চালান বা চুক্তিতে থাকা নম্বরে ফোন করুন, আর কে নিশ্চিত করলেন ও কখন, তা লিখে রাখুন।
তাইওয়ানে ফৌজদারি অভিযোগ
অপরাধের শিকার ব্যক্তি অভিযোগ (告訴) করতে পারেন (ফৌজদারি কার্যবিধির অনুচ্ছেদ 232); তা লিখিতভাবে বা মুখে প্রসিকিউটর বা বিচারিক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে করা যায় (অনুচ্ছেদ 242)। তাইওয়ানের ফৌজদারি আইন প্রযোজ্য হবে কি না, তা নির্ভর করে তাইওয়ানের সঙ্গে যোগসূত্রের ওপর। আইনটি তাইওয়ানের ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধে প্রযোজ্য (ফৌজদারি আইনের অনুচ্ছেদ 3), আর অপরাধের কাজ বা ফলের একটিও তাইওয়ানে ঘটলে সেটি তাইওয়ানে সংঘটিত ধরা হয় (অনুচ্ছেদ 4)। তাই ট্রান্সফার-রসিদে প্রাপক ব্যাংক কোন দেশের, দেখে নিন। বাংলাদেশে অভিযোগের নিয়ম বাংলাদেশের আইনজীবী বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানতে হবে।
অভিযোগ দায়ের থেকে সরবরাহকারীর বিলের হিসাব আপনা-আপনি মেটে না। ব্যাংক বা পুলিশ, যেখানেই যান, দুটি তারিখ হাতে রাখুন: ট্রান্সফার কবে হয়েছিল, আর আসল সরবরাহকারী কবে জানালেন যে টাকা পাননি।
তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্ত পেমেন্ট-বিরোধে wei@hoveringlaw.com.tw ঠিকানায় বা যোগাযোগ পাতায় লিখতে পারেন। প্রথম ইমেইলে অল্প কথায় ঘটনা, সরবরাহকারীর নাম (স্বার্থের সংঘাত যাচাইয়ের জন্য), তাইওয়ানের সঙ্গে সংযোগ আর কোনো সময়সীমা থাকলে তার তারিখ জানান। অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যাংক বিবরণ বা পুরো মূল নথি প্রথম ইমেইলে দেবেন না; ইমেইল পাঠালেই আইনজীবী ও মক্কেলের সম্পর্ক হয় না। পরামর্শ ইংরেজি, চীনা, জাপানি বা কোরীয় ভাষায় হয়; বাংলার ব্যবস্থা আগে ঠিক করে নিতে হবে।
সূত্র
24 অক্টোবর 2026 তারিখে যাচাই করা। দেওয়ানি আইনের অনুচ্ছেদ 166-1 এখনও কার্যকর হয়নি, আর 17 আগস্ট 2026-এ প্রকাশিত অনুচ্ছেদ 1223-এর সংশোধনী প্রকাশের ছয় মাস পরে কার্যকর হবে; উদ্ধৃত অনুচ্ছেদ 309, 310 ও 966 এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
- দেওয়ানি আইন (民法): অনুচ্ছেদ 309, 310, 966
- বিদেশি উপাদানযুক্ত দেওয়ানি বিষয়ে প্রযোজ্য আইন নির্ধারণের আইন (涉外民事法律適用法): অনুচ্ছেদ 20
- ফৌজদারি কার্যবিধি (刑事訴訟法): অনুচ্ছেদ 232, 242
- ফৌজদারি আইন (中華民國刑法): অনুচ্ছেদ 3, 4
- অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের (內政部) জাতীয় পুলিশ প্রশাসনের (警政署) অপরাধ তদন্ত ব্যুরো (刑事警察局): ইমেইলে প্রধান সেজে প্রতারণা ও পেমেন্টের আগে যাচাই, 29 সেপ্টেম্বর 2026
প্রশ্নোত্তর
- ব্যাংকের ট্রান্সফার-রসিদ থাকলে কি সরবরাহকারীর বিল শোধ হয়ে যায়?
- রসিদ দেখায় টাকা কোনো একটি অ্যাকাউন্টে গেছে। তাইওয়ানের আইন প্রযোজ্য হলে দেওয়ানি আইনের অনুচ্ছেদ 309 অনুযায়ী ঋণ শেষ হয় পাওনাদার বা টাকা নেওয়ার অধিকারী কাউকে দেওয়া টাকা তিনি গ্রহণ করলে। তৃতীয় কারও অ্যাকাউন্টে গেলে অনুচ্ছেদ 310-এর তিনটি পরিস্থিতির কোনোটি মেলে কি না ঘটনা দেখে ঠিক হয়।
- ভুয়া অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার পর তাইওয়ানে কি অভিযোগ করা যায়?
- অপরাধের শিকার ব্যক্তি অভিযোগ করতে পারেন (ফৌজদারি কার্যবিধির অনুচ্ছেদ 232), লিখিতভাবে বা মুখে প্রসিকিউটর বা বিচারিক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে (অনুচ্ছেদ 242)। তাইওয়ানের ফৌজদারি আইন প্রযোজ্য হবে কি না, তা নির্ভর করে অপরাধের কাজ বা ফলের একটি তাইওয়ানে ঘটেছে কি না তার ওপর (ফৌজদারি আইনের অনুচ্ছেদ 3 ও 4)। অভিযোগ দায়ের থেকে সরবরাহকারীর বিলের হিসাব আপনা-আপনি মেটে না।
- আসল সরবরাহকারী আবার পুরো টাকা চাইলে সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দিতে হবে?
- আপনা-আপনি নয়। আগে চুক্তির পেমেন্ট-ধারা, অ্যাকাউন্ট বদলের নির্দেশ কার কাছ থেকে এসেছিল এবং অনুচ্ছেদ 309-310-এর পরিস্থিতি দেখতে হয়। ধারা দুটি ঠিক করে ঋণ শেষ হলো কি না; ইমেইল ভাঙার কারণে এক পক্ষ অন্য পক্ষের কাছে আলাদা ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে কি না, তা এই দুই ধারার বিষয় নয়। দ্বিতীয়বার পাঠানোর সিদ্ধান্তের আগে আইনি পরামর্শ নেওয়া ভালো।
This article provides general information and is not legal advice on any individual matter.



